আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চক্রিবাড়ি গ্রামে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা বিলাস মুখার্জি (পিতা: পংকজ মুখার্জি), সাতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এর বাংলা বিভাগের শিক্ষক। প্রায় ছয় বছর আগে মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার পশ্চিম দরশনা গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ চক্রবর্তীর কন্যা শিমা চক্রবর্তীর সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার নগদ অর্থ, আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় সন্তানটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পারিবারিক জীবনে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিমা চক্রবর্তী। তার দাবি, গত দুই বছর ধরে তিনি স্বামীসহ শ্বশুর-শাশুড়ীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিলাস মুখার্জি নিয়মিত বাড়িতে থাকেন না এবং দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকেন। এতে সন্তানরা পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাড়িতে এসে আবারও পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
শিমা চক্রবর্তী জানান, শনিবার সকালে সন্তানের দেখভাল নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন এবং সিজারের স্থানে ব্যথা অনুভব করছেন বলে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে তার বাবা আশুতোষ চক্রবর্তী মেয়েকে দেখতে আসেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ওই পরিবারে প্রায়ই কলহ লেগে থাকে এবং এমন ঘটনার অভিযোগ আগেও শোনা গেছে।
এদিকে শিমা চক্রবর্তী বলেন, তিনি তার সংসার টিকিয়ে রাখতে চান, তবে নির্যাতনের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বড় সন্তানটি বাবার কাছে এবং ছোট সন্তানটি তার সঙ্গে থাকলেও যথাযথ যত্ন পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। এমনকি কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিলাস মুখার্জির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।