নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী কম্পিউটার অপারেটর মাহাফুজা সিদ্দিকা বদলীর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কর্মস্থল মাগুরায় যোগদান করেননি—এমন অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে বিআরটিএ মাগুরা সার্কেলে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে যশোর সার্কেল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তিনি যশোর কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) দেবাশীষ বিশ্বাসের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের নম্বর ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, মাহাফুজা সিদ্দিকা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং সন্তোষজনক আচরণ পাওয়া যায় না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহাফুজা সিদ্দিকা। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণে—বিশেষ করে তার সন্তানের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমতিতে তিনি এখনো যশোরে অবস্থান করছেন। তবে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো লিখিত অনুমোদন নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, যশোর সার্কেল থেকে অবমুক্ত করার বিষয়ে কোনো চিঠি এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি। গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি।
এদিকে গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাসের স্বাক্ষরে তাকে অবমুক্ত করার একটি চিঠি ইস্যু হয়েছে বলে জানা গেলেও সেটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেনি—এমন দাবি করেছেন মাহাফুজা।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অভ্যন্তরীণ জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।