নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিতর্কিত ফিল্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ মুসাকে জেলা কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গত ৮ এপ্রিল উপপরিচালক মো. মারুফ রায়হান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলির বিষয়টি জানা যায়। তবে মুসাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি শাস্তি নয়, বরং ‘পুরস্কার’। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি ভঙ্গ করে কেয়ারটেকার নিয়োগসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা আমলে নেওয়া হয়নি।
এর আগে ১৩ ও ১৮ এপ্রিল অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক মারুফ রায়হান কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। বরং দায়সারাভাবে মন্তব্য করেন, “কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিন্তু ১৯ এপ্রিল হাতে আসা বদলির আদেশে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ মুসাকে জেলা কার্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে আনা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ১৬ এপ্রিল সেখানে যোগদান করেছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে প্রায় ৮ বছর ধরে রাণীনগরে কর্মরত ছিলেন মুসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউপি পর্যায়ে কেয়ারটেকার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। একাধিক অভিযোগ সামনে এলেও দৃশ্যমান কোনো শাস্তি না দিয়ে তাকে জেলা পর্যায়ে পদায়ন করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ মুসা মুঠোফোনে বলেন, “নিউজ করার পর হোক বা আগে হোক, আমাকে বদলি করা হয়েছে। আমি স্বপদেই বদলি হয়েছি এবং ১৬ তারিখে যোগদান করেছি।”
অন্যদিকে উপপরিচালক মারুফ রায়হান বলেন, “তাকে ক্লোজ করে আমার সঙ্গে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরে কোনো কাজ করতে না পারে।” তবে প্রশাসনিক পদে পদায়নের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি দাবি করেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।