ঢাকা আলিয়া টু দ্য নেশন: মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের আইকনিক যাত্রা

সিয়াম, ঢাকা আলিয়া প্রতিনিধি

বাংলা ভাষায় ইসলামি চিন্তা ও সাহিত্যচর্চার একজন বাতিঘর ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.)। আজ ২৫ জুন তাঁর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে দেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিন্তাশীল মহল।

২০১৬ সালের এই দিনে ঢাকায় ইন্তেকাল করা এই মনীষী শুধু একজন লেখক বা সম্পাদক নন, ছিলেন যুগান্তকারী এক চিন্তাবিদ ও সাংবাদিক, যিনি ইসলামি শিক্ষা ও সাহিত্যের আধুনিক ধারাকে দৃঢ় হাতে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

শৈশব ও শিক্ষা১৯৩৫ সালের ১৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সুখিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি আলিয়া ধারায় পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৫১ সালে পাঁচবাগ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম, ১৯৫৩ সালে ফাজিল এবং পরবর্তীতে ঢাকায় আলিয়া মাদ্রাসা থেকে হাদিস ও ফিকহে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার সূচনাছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি ও সম্পাদনায় হাতে খড়ি। তিনি ‘সাপ্তাহিক নয়া জামানা’, ‘মাসিক দিশারী’ এবং দৈনিক ‘আজ’-এর ইসলামি পাতায় সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন মাসিক মদীনা পত্রিকা, যা আজো বাংলা ভাষায় ইসলামি চিন্তাচর্চার নির্ভরযোগ্য একটি নাম।

চিন্তার গভীরতা ও সাহিত্যিক ভূমিকা

তাঁর লেখনী ছিল প্রাঞ্জল, যুক্তিনিষ্ঠ ও আধুনিক পাঠকের উপযোগী। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ইসলামের শাশ্বত বার্তা ও সমাজ সংশোধনের প্রয়াসকে বাংলা ভাষায় প্রাঞ্জল করে তোলেন। তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে শিক্ষকতা না করলেও তাঁর পত্রিকা ও গ্রন্থসমূহ হয়ে উঠেছিল জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এক চলমান পাঠশালা।

উত্তরাধিকার

তাঁর চিন্তা ও সাহিত্য আজো ইসলামি চিন্তাশীল তরুণদের মাঝে প্রেরণা জোগায়। ধর্মনিরপেক্ষ সমাজেও তিনি ছিলেন ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক বোধের কণ্ঠস্বর।

আজকের দিনে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা যায়—বাংলা ভাষায় ইসলামি চিন্তাধারার একজন নিঃসঙ্গ পথিক তিনি, যিনি আলোর মশাল হাতে প্রজন্মের সামনে পথ দেখিয়ে গেছেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *