এইচএম আমজাদ হোসেন
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার নারীদের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজের অর্থনৈতিক অবদানকে পরিমাপ করা হলো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এবং জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women) যৌথভাবে প্রকাশ করেছে হাউসহোল্ড প্রোডাকশন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (HPSA) প্রতিবেদন, যা দীর্ঘদিন অবমূল্যায়িত থাকা নারীদের অদৃশ্য শ্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে নারীদের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসা পরিষ্কার, শিশু ও বৃদ্ধদের যত্ন, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের দেখভালের মতো কাজ নারীরা প্রতিদিন করে থাকলেও এতদিন এগুলোর কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। এবার সেই কাজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনীতির অংশ হিসেবে ধরা হলো।
গতকাল ঢাকার BBS অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব শারমিন এস. মুরশিদ, ইউনাইটেড নেশনস উইমেন-এর প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং এবং BBS-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নারীদের অবৈতনিক শ্রমকে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটি দেশের অর্থনীতি ও সমাজে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীদের শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি পুরুষদেরও গৃহস্থালি কাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। নীতিনির্ধারণে এ ধরনের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত করা হলে সামাজিক সমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবেদন শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি সামাজিক সচেতনতার প্ল্যাটফর্ম, যা গৃহস্থালি কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং নারী-পুরুষের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে।