নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়লের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আলিম।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে। পরদিন রবিবার শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বর্ণনা
কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আলিম জানান, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। বাইরের অ্যাম্বুলেন্স যেন রোগী নিতে না পারে, সেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায় চক্রটি। সিন্ডিকেট ভাঙতে গেলে হামলার শিকার হন তিনি।
তার ভাষায়,
“শনিবার রাতে জাহিদ মোড়ল অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে আসে। আমাকে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং চড়-থাপ্পড় মারে। জাহিদ আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, আমি জাহিদ মোড়ল, আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না, জানে মেরে ফেলব।”
তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের রহমত হোসেন জয়, শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন, আদাবরের নূর মোহাম্মদ রিয়াদ, রুবেলসহ আরও ৪০–৫০ জন হামলায় অংশ নেয়।
পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে শ্রমিক দলের বহিষ্কৃত নেতা হাসান দাবি করেছেন, তার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার লোকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তার পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, হাসান আগেই সোহরাওয়ার্দী ও পঙ্গু হাসপাতালের স্ট্যান্ড দখল করেছে। এবার হৃদরোগ হাসপাতালের স্ট্যান্ড দখল করতে গিয়ে জাহিদ মোড়লকে নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, জাহিদ মোড়লের নেতৃত্বে লোকজনের কাছে অস্ত্রও ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. ইমাউল হক বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। এক পক্ষ অভিযোগ করেছে, অন্য পক্ষ জিডি করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তেজগাঁও বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়লকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বহিষ্কারের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন।
প্রেক্ষাপট
গত ৩ জুলাই যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জাহিদ হোসেন মোড়লকে বহিষ্কার করে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বহিষ্কারের পরদিন ভোরে সেনাবাহিনী তার বাসায় অভিযান চালায়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি, বরং তার ভাই দেলোয়ার হোসেনকে অবৈধ ওয়াকি-টকিসহ আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।