আব্দুল কাইয়ুম পাটোয়ারী | মুরাদনগর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ৯ লাখ টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিলেকশন পদ্ধতিতে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত আগের প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের নেপথ্যে: ৯ লাখ টাকার লেনদেন!
স্থানীয় সূত্রমতে, কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পদে মোট ১০ জন প্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের লড়াই এড়াতে এবং পছন্দের ৩ জন প্রার্থীকে বিজয়ী দেখাতে গোপনে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাকি ৬ জন প্রার্থীকে ‘নির্বাচন না চাওয়ার’ শর্তে প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এই সমঝোতায় প্রায় ৯ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ফাঁস হলো ঘটনা
গোপন এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ পায় যখন গুঞ্জর গ্রামের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বাবু এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি টাকা নিতে সরাসরি অসম্মতি জানান এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে সরাসরি নির্বাচনের দাবি তোলেন। তাঁর এই অনড় অবস্থানের কারণেই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পুনঃনির্বাচন
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চাপের মুখে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তথাকথিত ‘সিলেকশন’ পদ্ধতি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি কলেজের বাইরের বিষয়, এ সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
সচেতন মহলের উদ্বেগ
একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে এমন অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা বলছেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি হলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।