বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া এলাকায় এক কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলা, এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের করা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল (৪২) রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাদিরগঞ্জ এলাকায় অভিযুক্তরা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে ঘিরে ধরে। কোনো কারণ ছাড়াই কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও মারধর শুরু করে। এই হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার সময় অভিযুক্তরা ওই শিক্ষকের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আবু সুফিয়ান চন্দন (২৭) ও মো. শিহাব হোসেন (২৩)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অপর অভিযুক্ত মুরাদ (২২)-কে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ
এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১টায় শাহ মখদুম কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণকারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত শিহাব হোসেনকে কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
রাজশাহীর সচেতন মহলের মতে, একজন পেশাজীবী ও কলেজ শিক্ষকের ওপর এমন হামলা সমাজের জন্য অশনি সংকেত। সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, “আমি একজন শিক্ষক। বিনা কারণে আমাকে মারধর ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”