নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন এলাকায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে। এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দিনরাত মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করায় এলাকার পরিবেশ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন চিত্র ও জনদুর্ভোগ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইছালী ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান বাবু প্রভাব খাটিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছেন। মাটির ভারি ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলজিইডির নির্মিত পাকা রাস্তাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে আর বৃষ্টি শুরু হলে কাদা-মাটির কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা ভয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) দুপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগী মো. মিলন সাংবাদিকদের সাথে অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করেন। তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, “নিজেদের জায়গা থেকে মাটি কাটছি, কাউকে জানানোর প্রয়োজন নেই। আপনাদের যা মন চায় করেন।” এর আগেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুরকে জরিমানা করলেও তিনি পুনরায় অবৈধ খনন শুরু করেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
বিষয়টি নিয়ে ইছালী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বাবু কৌশলে পালিয়ে যান। ভূমি কর্মকর্তা অভিযুক্তের লোকজনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ছবিসহ প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু ভূমি কর্মকর্তা চলে আসার পরপরই পুনরায় মাটি কাটা শুরু হয়।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, “এর আগেও আমরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে জরিমানা করেছিলাম। তখন তিনি আর মাটি কাটবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। যেহেতু তিনি আবার আইন অমান্য করে মাটি কাটা শুরু করেছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবেশ ও সরকারি রাস্তা রক্ষায় দ্রুত এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।