ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি জেলা শহরের সাব-পোস্ট অফিসের নিচে অবস্থিত ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এজেন্ট মালিক গৌতম মিস্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এতে ইতোমধ্যেই অর্ধশতাধিক গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
প্রতারণার কৌশল
ভুক্তভোগীরা জানান, গৌতম মিস্ত্রী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে গ্রাহকদের প্রলোভন দেখাতেন। বলা হতো— “এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই সহজে সঞ্চয়পত্র কেনা সম্ভব।” আশ্বাস পেয়ে অনেকে জীবনের সঞ্চিত টাকা জমা দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সঞ্চয়পত্র না দিয়ে দীর্ঘদিন নানা তালবাহানায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রাহকদের হতাশা
প্রতারিত গ্রাহকরা জানান, পরিবার চালানোর শেষ ভরসাটুকু দিয়েও অনেকে টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা দিশেহারা। কেউ কেউ জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা
ব্যাংক এশিয়ার স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তবে স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক ইতোমধ্যে ঝালকাঠি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
ঝালকাঠি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে, প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নীরবতা
এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (বিডিএম) প্রশান্ত চন্দ্র বওয়াল এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এতে গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, দায় এড়াতে কিংবা যোগসাজশ ঢাকতেই তিনি নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি
প্রতারিত গ্রাহকরা অবিলম্বে প্রতারকদের গ্রেপ্তার, টাকা ফেরত এবং এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।