বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ফসলি জমি ও আমবাগান ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র আইনের তোয়াক্কা না করে উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি ঐতিহ্য ও পরিবেশ।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের অর্থের প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে। কোথাও কোথাও আমবাগান কেটে ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর গর্ত করা হচ্ছে, যা জমিকে স্থায়ীভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী করে তুলছে। বিশেষ করে বলিহার গ্রামে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কাটার চিত্র দেখা গেছে। খননকাজে জড়িতরা প্রশাসনের অনুমতির দাবি করলেও স্থানীয়রা একে ‘পুকুর খননের আড়ালে বাণিজ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইন ও দণ্ড: আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের আওতায় অবৈধ মাটি উত্তোলনের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
জনজীবনে ভোগান্তি: উত্তোলনকৃত মাটি খোলা ট্রলিতে করে পরিবহনের ফলে গ্রামীণ রাস্তাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তায় মাটি পড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতভর মাটি কাটার শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি: সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে বাঘা উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।