নিজস্ব প্রতিবেদক:📍 ঢাকা, ৩ জুন ২০২৫জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, এই বাজেটের ফলে দেশে অর্ধভুক্ত ও অভুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়বে।মঙ্গলবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাজেট কোনো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নয়, বরং এটি একটি ‘নব্য ফ্যাসিবাদী’ চিন্তার প্রতিফলন। তার ভাষায়, “বাজেটটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পুরনো বাজেটেরই ধারাবাহিকতা। নতুনত্বের কোনো ছাপ নেই। বরং এটি একটি গতানুগতিক এবং দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা।
“তিনি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমান বাস্তবতায় অসম্ভব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি থাকলে বিদেশি ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ, ফলে বাজেট ঘাটতি বাড়বে।
জিএম কাদের আরও বলেন, “এই বাজেটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য কোনো স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রাও অবাস্তব। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দরিদ্র মানুষের দুর্দশা আরও বাড়বে।
“তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বরাদ্দের বেশিরভাগটাই ভর্তুকির জন্য, কিন্তু বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অনিবার্য হয়ে উঠবে, যা জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে ‘নীতিবহির্ভূত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করবে এবং বৈষম্য আরও বাড়াবে।” শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাজেট কমানোও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয় তার বক্তব্যে।তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আয় না বাড়িয়ে কেবল খরচ বাড়িয়ে কীভাবে সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাবে?” একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেটের কাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ছেড়ে উদ্যোক্তা হবেন ও রাজনীতিতে জড়াবেন। অথচ প্রয়োজন ছিল শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বাজেটের আদলে তৈরি এই বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না।