ঝিকরগাছায় এমসিডি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

অনুসন্ধান প্রতিবেদন

যশোর প্রতিনিধি:
ঝিকরগাছা উপজেলার এমসিডি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক এবং বহিরাগত কোচিং শিক্ষকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, প্রধান শিক্ষকের প্রশ্রয়েই এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত তিন থেকে চার মাস ধরে বিদ্যালয়টির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে কোচিং শুরু হয় এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আবারও কোচিং পরিচালিত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর এবং বিদ্যালয়ের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ছেলে মোঃ উচমান বিদ্যালয়ের কক্ষে কোচিং পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহিরাগত এক শিক্ষক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। তবে সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীরকে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকরা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি কোচিং শেষ করে চলে যান।

কোচিংয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব শিক্ষকের কাছে কোচিং করছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, সকাল ও বিকেল—দুই সময়েই কোচিং অনুষ্ঠিত হয়।

বহিরাগত কোচিং শিক্ষক মোঃ উচমান জানান, বিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর ছেলে হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেউ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।”

এ সময় দেখা যায়, যে কক্ষে কোচিং চলছে সেখানে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উচমান বলেন, বিদ্যুৎ বিল তাকে দিতে হয় না, বিদ্যালয় থেকেই তা পরিশোধ করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট পড়ানো সরকারি নিয়মে নিষিদ্ধ—এ বিষয়টি তিনি জানেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে শিক্ষকরা কোচিং পরিচালনা করছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তাকে জানানো হয় যে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণায় ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি শুনেছেন এবং প্রয়োজন হলে কোচিং বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তবে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালেও বিদ্যালয়ে কোচিং কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মোঃ মাহফুজুল হোসেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, “যদি ওই বিদ্যালয়ে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ঝিকরগাছা উপজেলার এমসিডি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *