টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মূলহোতাসহ দুইজন গ্রেফতার করেছে সিআইডি

ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৫:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল এলআইসি ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫)-কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ফারদিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই টিম ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা এলাকা থেকে তার সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪)-কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে “বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম” নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। গ্রুপে কিছু সদস্য নিয়মিত “লাভ পাওয়ার” গল্প পোস্ট করত, যা আসলে ছিল প্রতারণার অংশ। এতে ভিকটিমরা প্রলুব্ধ হয়ে বিনিয়োগ করত এবং চক্রের ফাঁদে পড়ত।

এই অর্থ তারা বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের নামে খোলা ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করত। বহু বিনিয়োগকারী এসব ভুয়া গ্রুপে বিনিয়োগ করে সর্বস্ব হারিয়েছেন। এমনকি যেসব একাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হতো, সেগুলোর মালিকরা অনেক সময় বিষয়টি না জেনেই অভিযুক্ত হয়ে পড়েন।

এই ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়—
মামলা নং ১০ (তারিখ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) এবং মামলা নং ১২ (তারিখ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
উভয় মামলাই দণ্ডবিধির ৪২০/৪১৭/৪১৯/৪০৬/১০৯/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। মামলা দুটির তদন্তভার সিআইডির ওপর ন্যস্ত করা হলে দ্রুততম সময়ে তারা চক্রটিকে শনাক্ত করে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মূলহোতা ফারদিন আহমেদ নিজে টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো পরিচালনা করত। সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৩০টিরও বেশি ব্যাংক একাউন্ট, এমএফএস একাউন্ট ও সিমকার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখত। তার সহযোগী সাগর আহমেদ “Rio” নামে একটি ফেইক আইডি ব্যবহার করে “Alexa Wick” নামীয় গ্রুপ পরিচালনা করত, যার সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ জন। তারা অনলাইন বিনিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এ ছাড়া, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করত। ফারদিন বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি কিনে অল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করত এবং কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ তুলত। এভাবেই প্রতারণার টাকা ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।

গ্রেফতারকৃত ফারদিন আহমেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার নিয়ন্ত্রণাধীন একাউন্টগুলোতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। চক্রের অন্যান্য সদস্য, একাউন্ট তথ্য ও অর্থের গন্তব্য উদঘাটনের জন্য আটক দুই আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ পরিচালনা করছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *