নিজস্ব প্রতিবেদক:- ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৫ :
সাফল্যের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় কমিশনের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টাকে সভাপতি করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল (৩১ অক্টোবর)। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও সংলাপের মাধ্যমে কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের ঐতিহাসিক অর্জন। এই সনদ জাতির এক মূল্যবান দলিল, যা শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথ সুগম করবে না, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত ও টেকসই করবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ প্রত্যাশায় আছে এমন পরিবর্তনের, যা দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাবে এবং আর কখনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেবে না। এই সনদ তারই সূচনা।”
অতীতের সংলাপগুলোতে বিদেশি মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতি থাকলেও এবার নিজেদের উদ্যোগে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা নিজেরাই সংকট মোকাবিলায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
তিনি কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মাসের পর মাস সংলাপের প্রতিটি ধাপ তারা জনগণের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের এই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জাতিকে বিভক্ত করতে তৎপর, তাই ঐক্যই আমাদের শক্তি। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে চ্যালেঞ্জ অনেক, তবে সম্মিলিত ঐক্যই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র উপায়।”