নিজস্ব প্রতিবেদক:- ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৫:
রাজধানীর চন্দ্রিমা মডেল টাউন হাউজিংয়ে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর এক দখল চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এ চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি, যিনি এখনো সাবেক উপদেষ্টা এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
দক্ষিণ দোহার উপজেলার মুকসুদপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম, পেশায় রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৩ সালে পরিবারের বসবাসের জন্য চন্দ্রিমা মডেল টাউনে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে তিনটি দোকান ও একটি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাসিক ১,৫০০ টাকায় ভাড়া দেন কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। কিন্তু পরে ওই ভাড়াটিয়া কামরুল রেজাউলের সম্পত্তি দখলে নিতে শুরু করেন।
২০১৫ সালে রেজাউল করিম আদালতের দ্বারস্থ হন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আদালত রেজাউলের পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের রায় উপেক্ষা করে কামরুল ইসলাম সম্পত্তি দখল বজায় রাখেন এবং উল্টো নতুন নাটক সাজান।
১৭ অক্টোবর রেজাউল করিমের আরেক ভাড়াটিয়ার ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর পরদিন ১৮ অক্টোবর কামরুলের স্ত্রী মাকসুদা আক্তার মুক্তা মোহাম্মদপুর থানায় রেজাউল করিম ও তাঁর পরিবারকে আসামি করে মামলা নং-৫৯ দায়ের করেন।
মামলার বাদী মাকসুদা আক্তার বলেন, “রেজাউল আগে কেয়ারটেকার ছিলেন, এখন জাল কাগজ বানিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। ওর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল মোমিন জানান, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে দুই পক্ষেরই উদ্দেশ্য ছিল দখল নেওয়া। তদন্ত চলছে।”
ঘটনার সময় জমির মালিক রেজাউল করিম পরিবারসহ কক্সবাজারে অবকাশ যাপনে ছিলেন। প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া কর্ণফুলী টানেল টোল টোকেন ও হোটেল ইকো রিসোর্টের বিল ভাউচার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে ১৩ অক্টোবর রেজাউল করিম মোহাম্মদপুর থানায় কামরুল ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রেজাউল করিম দাবি করেন, “কামরুল পূর্বে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ আছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, “রেজাউল করিম ভুয়া কাগজ বানিয়ে আমার বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। আমার শ্বশুরের জায়গাটি সে নিজের নামে নিতে চায়।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চন্দ্রিমা মডেল টাউনে এমন দখলবাজ চক্রের কার্যক্রমে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কামরুল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।