মুজাহিদ খাঁন কাওছার:
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত টন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন কার্গো ভিলেজে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে সময় লাগবে।
তবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, কার্গো ভিলেজে এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৩ পয়সা) ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, “কার্গো এক্সপ্রেস, ওয়্যারহাউজ, পণ্যবাহী বিমান ও বিমানবন্দরের অবকাঠামোসহ সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।”
কার্গো ভিলেজ মূলত আমদানি ও রপ্তানির জন্য অপেক্ষমাণ পণ্য সংরক্ষণের স্থান। আমদানিকারক বা তাদের প্রতিনিধিরা শুল্কায়ন শেষে এখান থেকে পণ্য খালাস করেন। পচনশীল পণ্য—শাকসবজি, ফলমূল ছাড়াও তৈরি পোশাকজাত সামগ্রী সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে প্রেরণ করা হয়। তবে রপ্তানিমুখী পণ্যের স্পেস সংকট বা শুল্কায়ন বিলম্বের কারণে অনেক চালান কয়েক দিন পর্যন্ত এখানে থাকে।
আরএমকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন, “এই ঘটনায় অসংখ্য আমদানিকারকের পণ্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই জানা যাবে, কার কার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের আমদানি-রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শুল্ক বিভাগ, বিমান সংস্থা ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। আগুনে কেবল পণ্যই নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (ICAO) নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।
দেশের বাণিজ্যখাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং রপ্তানি পণ্যের লিড টাইমে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে।