জাহাঙ্গীর আলম মানিক
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনি সুরক্ষার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড ফাউন্ডেশন (BAAF)’ এর
উদ্যোগে গত ২ জুলাই বিকেলে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল— ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা ও রাফির মৃত্যু: আমাদের করণীয় ও সরকারের কাছে প্রত্যাশা’।
সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের ওপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন সহিংসতা এবং অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে আহত তরুণ রাকিব চৌধুরী রাফির (২১) নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আলোচনা সভায় শিশুদের সুরক্ষায় প্রধান
৫টি বিষয়ের ওপর কথা বলেন সাইফুল ইসলাম তপু অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ অইন ও অধিকার এইড ফাউন্ডেশন সভাপতিত্ব বলেন
১. শারীরিক সহিংসতা রোধ: লাঠি বা থাপ্পড় দিয়ে আঘাত করা, জোরপূর্বক ভারী কাজ করানো এবং ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করা।
২. মানসিক বা আবেগীয় সহিংসতা বন্ধ: শিশুদের ভয় দেখানো, গালিগালাজ বা সবার সামনে লজ্জা দিয়ে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত করা বন্ধ করা।
৩. যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ: শিশুদের যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন, ব্ল্যাকমেইল বা অশ্লীল ছবি-ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. অবহেলা ও শোষণ বন্ধ: মৌলিক অধিকার (খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা) থেকে বঞ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করা।
৫. পারিবারিক সহিংসতা থেকে রক্ষা: বাবা-মার কলহ বা পারিবারিক নির্যাতন শিশুদের সামনে না করা, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।
রাফির হত্যাকাণ্ড ও সমসাময়িক কিশোর অপরাধ:
আলোচনায় উঠে আসে, গত ১৬ জুন মধ্যরাতে রাকিব চৌধুরী রাফি যখন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, এই ঘটনার পেছনে ছিল একটি কিশোর গ্যাং চক্র। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আলফাত পারভেজ ও ফরহাদ তারেক কালুসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতেই এই কিশোররা এই ধরণের নৃশংস অপরাধের পথ বেছে নেয়।
আইনি সুরক্ষার কার্যকারিতা:
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, শিশু আইন ২০১৩ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০-এর মতো শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে।
সংকট উত্তরণে বক্তাদের সুপারিশ:
আলোচনা সভা থেকে এই সংকট উত্তরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বা করণীয় তুলে ধরা হয়:
পারিবারিক নজরদারি: সন্তানদের দৈনন্দিন কার্যক্রম, বন্ধু মহলের খোঁজ রাখা এবং তাদের মানসিক পরিবর্তনের দিকে বাবা-মাকে সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। জাকির হোসেন অ্যাডভোকেট বলেন
শিক্ষার গুণগত রূপান্তর: কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
পুনর্বাসন ও সচেতনতা: মাদকাসক্ত ও অপরাধপ্রবণ কিশোরদের কেবল অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে।আলী আজগার ইমান এটিএম বাংলা সাংবাদিক বলেন দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ: শিশু নির্যাতন ও কিশোর অপরাধের সাথে জড়িতদের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নার্গিস চৌধুরী লাভলী ,তারা নিজের বাংলাদেশ প্রতিনিধি খ ম আলামিন বাকি ওডক্টর মমতাজ খানম।