বিআরটিএ’র এডি জিয়ার ‘আলাদিনের চেরাগ’: আঙুল ফুলে কলাগাছ, দাপট কমেনি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও!

বিশেষ প্রতিবেদক: সাধারণ মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে পদোন্নতি পেয়ে বিআরটিএ-র সহকারী পরিচালক (এডি) হওয়া জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে বছরের পর বছর খিলক্ষেত ও মিরপুর সার্কেলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষার বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে তিনি এখন বিপুল সম্পদের মালিক।

অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ-র সাবেক চেয়ারম্যানের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত খিলক্ষেত ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিল্ড টেস্টের ‘ফেল-পাস’ বাণিজ্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন জিয়াউর রহমান। শতখানেক দালালের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি মাসে এই বোর্ড থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রিকশা-ভ্যান বা সিএনজিচালকদের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই অর্থ আদায় করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দোহারের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের একটি রাজকীয় বাড়িতে বসবাস করেন। এছাড়া ঢাকা ও গ্রামের বাড়িতে নামে-বেনামে অসংখ্য ফ্ল্যাট, প্লট ও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হয়েও তিনি ঢাকা মেট্রো-গ ১৬-১৪১৭ নম্বরের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করেন, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সরকারের পতনের পর বিআরটিএ-র অনেক কর্মকর্তা আত্মগোপনে গেলেও জিয়াউর রহমান বহাল তবিয়তে আছেন। অভিযোগ উঠেছে, নতুন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি তার অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং লাইসেন্স বাণিজ্য আরও বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিআরটিএ-র মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন সিন্ডিকেটভিত্তিক দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের উৎস তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *