স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, আইস, কুশ ও কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও কয়েকজন মূল হোতা এখনো পলাতক রয়েছে।
আদাবরে ইয়াবা ও আইস উদ্ধার
২৫ আগস্ট (সোমবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) এর উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি দল আদাবর থানাধীন বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসায় অভিযান চালায়। এসময় মো. খাইরুল ইসলাম ওরফে রিয়ান (২৬) কে ৪ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় মিলন মোল্লার দখলে থাকা ভাড়াবাসা থেকে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ভয়ংকর মাদক মেথাইল অ্যামফিটামিন (আইস) উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, এই মাদকের মূল মালিক হলেন—
১. মো. সৌরভ ইসলাম শান্ত ওরফে তোফায়েল হোসেন শান্ত (পলাতক),
২. ইয়াছমিন আক্তার আঁখি (পলাতক)।
গ্রেফতারকৃত মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সৌরভ ইসলাম শান্তকে ডিএনসির তালিকাভুক্ত গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার নামে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
পল্টনে ডাকঘর থেকে কুশ উদ্ধার
একইদিন উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পল্টন মডেল থানার পুরাতন ডাক ভবনের বৈদেশিক ডাক শাখায় অভিযান চালানো হয়। এসময় অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা চালানের মধ্যে থেকে ২৮০ গ্রাম টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনলযুক্ত কুশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর মোহাম্মদ রিপন (৫০) কে পরবর্তীতে আটক করা হয়।
কাস্টমসের অভিযানে বিদেশি নারীসহ কোকেন উদ্ধার
২৬ আগস্ট ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ কাস্টমস ও ডিএনসির যৌথ অভিযানে গায়ানা রিপাবলিকের নাগরিক Karen Petula নামের এক নারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।