নিজস্ব প্রতিবেদক
পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও পর্যটনসহ বরিশাল বিভাগের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের ডি এল হলে বরিশাল ডিভিশনাল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। প্রধান আলোচক ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার, বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও নিজাম গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামুদ্দিনসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল ডিভিশনাল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব সৈকত। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সানবির রুপল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সংগঠনের উপদেষ্টা ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ সময় আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কাজী জেবেল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক ফাহিম মোনায়েম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য নাজিয়া আফরিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
পায়রা বন্দর ঘিরে শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনা
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বরিশাল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল। বিশেষ করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা গেলে বরিশাল অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
কুয়াকাটায় পর্যটন বিকাশে পরিকল্পনার তাগিদ
কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টিও সেমিনারে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
পর্যটনকে ঘিরে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটনকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগানোর আহ্বান
বরিশাল উপকূলের বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আহরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে দেশ-বিদেশে রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তাদের মতে, সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষি-মৎস্য-পর্যটন-বন্দরকে একই পরিকল্পনায় আনার তাগিদ
বক্তারা বলেন, বরিশালের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বরিশালের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে যোগাযোগ অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের উদ্যোগের প্রশংসা
বরিশালের সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন করায় বরিশাল ডিভিশনাল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের প্রশংসা করেন বক্তারা।
তারা বলেন, বরিশালের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ধরনের আলোচনা ও জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনার থেকে বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী সমাজ, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যম সমন্বিতভাবে কাজ করলে বরিশালকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে।