নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিতিবৃন্দ: এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
এনসিপির পর্যবেক্ষণ ও প্রচারণা: বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা জানান। তাঁরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তাঁরা জানান যে, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো হলো:
- কঠোর নজরদারি: অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ থাকবে।
- নিরপেক্ষ প্রশাসন: মাঠ প্রশাসনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের রদবদল করা হয়েছে।
- গণভোটের প্রচারণা: সরকার আইনসম্মতভাবেই “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। কেন এই ভোট প্রয়োজন তা জনগণকে বোঝানো হচ্ছে এবং এতে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
- তাতক্ষণিক ব্যবস্থা: নির্বাচনে কেউ আইন অমান্য করলে বা কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত সরকারকে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে ‘দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি সুষ্ঠু করা সরকার ও রাজনৈতিক দল—সবার দায়িত্ব।