অস্ত্রসহ আকুল গ্রেফতার হলেও অধরা হোতা আজিম!

স্টাফ রিপোর্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে যশোরের শার্শার আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসেন গ্রেফতার হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে তার প্রধান সহযোগী ও রাজস্ব ফাঁকি চক্রের হোতা আজিম (৩০)।

গ্রেফতার ও অপরাধের ইতিহাস: গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে যশোর সদরের রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ আকুলকে গ্রেফতার করে। সে শার্শার ঘীবা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার নামে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

২০২১ সালে ঢাকা ডিবি পুলিশের অভিযানে ৮টি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আকুল ও আজিম একসঙ্গে ধরা পড়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আকুল পলাতক থাকলে অস্ত্র ব্যবসার হাল ধরে বেনাপোলের দুর্গাপুর গ্রামের আজিম। আজিমের বড় ভাই সাদ্দাম বেনাপোল পৌর বিএনপির অর্থ সম্পাদক হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে সে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বর্ণ-অস্ত্র সিন্ডিকেট ও শুল্ক ফাঁকি: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিম ও আকুল ভারত থেকে অস্ত্র এনে দেশে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণের চালান পাচার করে। শুধু অস্ত্র নয়, বেনাপোল বন্দরে ‘ওমর এন্ড সন্স’ ও ‘জামান ট্রেডার্স’ এর মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ভুয়া ঘোষণায় পণ্য এনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট।

সম্প্রতি ৭ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় কাঁচা মরিচের ট্রাক থেকে এয়ার পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায়ও আজিমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর ভারতের পেট্রাপোলে আটককৃত মিথ্যা ঘোষণার পণ্যের বস্তায় ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেটে’র সদস্য আজিমের নাম লেখা থাকতে দেখা যায়।

সম্পদের পাহাড়: অস্ত্র ও রাজস্ব ফাঁকির টাকায় আজিম বেনাপোল ও যশোরে আলিশান বাড়ি এবং নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সে আবার অস্ত্র ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, আজিমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালানের লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *