নিজস্ব প্রতিবেদক:- ঢাকা, ২৩ নভেম্বর ২০২৫: সিআইডি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর, চাঁদা আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মো. হাসানুজ্জামান (৩৫), পিতা—মো. জাকির হোসেন, ঠিকানা—বাদপুকুরিয়া, ঝিনাইদহ;
এবং মো. আলমগীর শিকারী (46), পিতা—মৃত আবুল কাশেম শিকারী, ঠিকানা—ভাগবা, কয়রা, খুলনা।
তাদেরকে ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরিচয় তৈরির কৌশল: তাবলীগ জামাতের পরিচয়কে ব্যবহার
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাবলীগ জামাত বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে। এরপর অভাবের কথা বলে টাকা নেওয়া ও পরবর্তীতে অপহরণ–চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে।
ভুক্তভোগী জামাল (ছদ্মনাম) কাকরাইলের তাবলীগ জামাতের মারকাজে এক প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে অভিযুক্ত সামসুল হক খান (৫৬)–এর সঙ্গে পরিচিত হন। সামসুল নিয়মিতই টাকার জন্য চাপ দিতেন।
অপহরণের ঘটনাপ্রবাহ
২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর, জামাল খুলনায় ব্যবসায়িক কাজে থাকাকালে সামসুল তার মোবাইলে ফোন করে অসুস্থতার অজুহাতে টাকা চান। রাতে ঢাকা পৌঁছে যাত্রাবাড়ি কাঁচাবাজার গোল চত্বরে তাদের দেখা হয়। রেস্টুরেন্টে নাস্তা শেষে জামাল তাকে ২,০০০ টাকা দেন।
রাত ১১:০০টার দিকে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর সামসুলসহ অজ্ঞাত ৭ জন জামালকে ঘিরে ফেলে। তারা নিজেদের সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখায় এবং পিস্তলের মুখে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে। সাথে থাকা জামালের ব্যবসায়িক পার্টনার রেজাউল করিমকেও আটক করা হয়।
অপহরণকারীরা তাদেরকে হাসনাবাদ এলাকার বসুন্ধরা সিটির বি-রক, রোড-০৮–এর ছয়তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জামালকে মারধর করা হয়।
ভয়ে জামাল নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। রেজাউলের কাছ থেকেও ২৭ হাজার টাকা নেয় চক্রটি।
ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল
পরবর্তীতে জামালকে বিবস্ত্র করে একটি তরুণীর সাথে বসিয়ে ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয় এবং ১৮টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়।
অপহরণ ও নির্যাতন চলে ১৪ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে পরদিন ১৫ অক্টোবর বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
মুক্তি পাওয়ার পরে জামালকে হুমকি দেওয়া হয় যে, পুলিশে অভিযোগ করলে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া হবে।
এক সপ্তাহ পর চক্রটি আবার যোগাযোগ করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে মিথ্যা মামলা ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
মামলা ও গ্রেফতার
পরবর্তীতে জামাল ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা (নং-১৬) দায়ের করেন।
সিআইডি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তদন্তের ধারাবাহিকতায় দু’জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।