নিজস্ব প্রদিবেদক:- বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা অলি হাসান সৃজন। দেশের সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিসে অবদান রেখে তিনি ইতোমধ্যে একজন দক্ষ ও সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের সন্তান অলি হাসান সৃজন স্থানীয়ভাবে পরিচিত “সৃজন” নামে। খলাপাড়া চেয়ারম্যান বাড়ির মো. আব্দুস সালাম তালুকদারের ছোট ছেলে তিনি। ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিস নিয়ে কাজ করা তরুণ উদ্যোক্তার গল্প আজ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে অনেকের কাছে।
ময়মনসিংহের রুমডো পলিটেকনিক কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন সৃজন। পড়াশোনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “অ এইস এস আইটি” (OHSIT) নামের একটি আইটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান ফেসবুক আইডি ও পেজ রিকভার ও সেটআপ, ওয়েবসাইট তৈরি ও সাপোর্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান, গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন সার্ভিস প্রদান করছে।
সৃজন ও তার টিম ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে। ভারতসহ কয়েকটি দেশের আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তার বিশ্বাস— “ফ্রিল্যান্সিং জগতে সীমান্তের কোনো বাধা নেই।”
শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যেই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের তরুণদের সচেতন করতে সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজনের। তিনি বলেন,
👉 “আমরা চাই প্রতিটি মানুষ জানুক কিভাবে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দেশের স্বার্থে আমরা সরকারের সঙ্গে অংশীদার হয়ে কাজ করতে চাই।”
তার প্রতিষ্ঠান OHSIT এখন অনেকের আস্থার নাম। যারা ফেসবুক আইডি সেটআপ, ওয়েবসাইট ডাউন হওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য সমস্যায় ভুগছিলেন, তারা সৃজনের টিমের মাধ্যমে সমাধান পেয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
গ্রামীণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা অলি হাসান সৃজন শুধু তরুণ উদ্যোক্তা নন; বরং দেশের অর্থনীতির এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক। তার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে— দৃঢ় সংকল্প ও পরিশ্রম থাকলে বিশ্ব অঙ্গনে অবদান রাখা সম্ভব।