গণতন্ত্র ও গণমানুষের স্বার্থে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:- ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের গণতন্ত্র, গণমানুষের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের মর্যাদা রক্ষায় “গণমাধ্যম সপ্তাহ”-এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর রংধনু কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক শেষ সংবাদ পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের এই ক্ষুদ্র দাবিটি আর বিলম্ব না করে দ্রুত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এ দাবিতে আগামী ১২ এপ্রিল সারাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পাঠানো হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে দেশের সকল সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “বাংলাদেশের ৫৬ বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা পেলেও সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা পায়নি। সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা, সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং পেশার মর্যাদা রক্ষায় তালিকা প্রণয়ন এখনো আলোর মুখ দেখেনি।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের শুধু “জাতির বিবেক” বলে উল্লেখ করলেই হবে না, তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে কেক কাটা, আলোচনা সভা, সাংবাদিক সম্মাননা ও সনদ বিতরণসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পত্রিকাটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক নুর হাকিম, বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সোনালী খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মনিরুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ ট্রাভেলস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল হাকিম, বাংলাদেশ পৌরসভা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন হোসাইন এবং মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক শেষ সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেন। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান ও বার্তা সম্পাদক শেখ সেলিম রেজা।

এছাড়াও সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলোচনা পর্বে বক্তারা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং বর্তমান সময়ে লেজুড়বৃত্তিমূলক সাংবাদিকতার কুফল নিয়ে কথা বলেন। তারা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচারহীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি জানান।

অনুষ্ঠান শেষে কেক কাটা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘শেষ সংবাদ’ ভবিষ্যতেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *