বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আটক: নেপথ্যে জেসি রুবেলের ‘সবুজ সংকেত’ ও সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার:

বেনাপোল স্থলবন্দর-এ ভারত থেকে আমদানিকৃত একাধিক পণ্য চালান আটকের ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস-এর কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আনা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য চালান আনতে সহায়তা করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ রাতে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে ১০০ প্যাকেজ বেকিং পাউডারের একটি চালান আনলোড করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স বেকিং পাউডার ঘোষণা দিলেও পরীক্ষায় সেখানে ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস ও কেমিক্যাল পণ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনাল। চালানটির মেনিফেস্ট নম্বর ৬০১/২০২৬/০০১/০০১৬৩৩৩/০৩ এবং এলসি নম্বর ০০০০১৮১১২৬০১০৫৬৪।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাইদ আহম্মেদ রুবেল-এর সবুজ সংকেতেই মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এই চালান বন্দরে প্রবেশ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বেনাপোলের কথিত শুল্ক ফাঁকিবাজদের মধ্যে ছোট আচঁড়ার কামাল, যশোরের আজিম, পুটখালীর মাস্টার হাদী, বেনাপোলের সামাদ ও জাফরসহ কয়েকজন নিয়মিতভাবে অবৈধ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা, যিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, তিনি ওই চালান আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সহযোগী ছিলেন বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড ইনচার্জ নুর আমিন।

এর আগে ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় তিনটি ট্রাকযোগে বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় ১৩ কোটি টাকার পণ্য চালান আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তখন ঘোষণাবহির্ভূত প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার পিস জিলেট ব্লেডসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কাস্টমস আইন অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের লাইসেন্স বাতিলসহ জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা এড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, বেনাপোল বন্দরে আটক হওয়া ৬ কোটি টাকার পণ্য চালানে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *