যশোরে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে রাতে দায়িত্বে না থাকার অভিযোগ

অনুসন্ধান প্রতিবেদন

যশোর প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার হুদারাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রাতে দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে রাতে কাউকে পাহারা দিতে দেখা যায় না এবং প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে ও ভেতরের লাইট সারারাত জ্বালানো অবস্থায় থাকে।

গত সাত দিনের তথ্য সংগ্রহে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত বাল্ব জ্বালানো অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পাহারাদার উপস্থিত থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মো. সোহেব হোসেন–এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “মাঝেমধ্যে ভুলে লাইট বন্ধ করা হয় না। আর আপনাদের কে বলেছে আমি রাতে থাকি না? অবশ্যই আমি রাতে স্কুলে থাকি।”
তবে পরে স্থানীয়দের বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি নিয়মিত রাতে বিদ্যালয়ে থাকেন না।

তিনি দাবি করেন, “সরকারি নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে রাতে স্কুলে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি রাতে স্কুলে থাকি না—এ কথা বলেছি। আপনারা যা ইচ্ছা করতে পারেন, আমার কোনো সমস্যা নেই।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টার সময়ও বিদ্যালয়ের বাইরের একটি বাল্ব জ্বলছিল। আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সাধারণত রাতে বিদ্যালয়ে কাউকে পাহারা দিতে দেখেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে নৈশ প্রহরী কিছু সময় বিদ্যালয়ে এসে আবার চলে যান।

এলাকাবাসীর একজন বলেন, “রাতে কাউকে স্কুলে থাকতে দেখিনি। লাইট অনেক সময়ই জ্বালানো থাকে। নিয়ম কী, তা আমরা জানি না।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব নিয়ম-কানুন আমার জানা নেই। যদি নৈশ প্রহরী রাতে না থাকেন, তাহলে বিষয়টি তার সঙ্গেই কথা বলতে হবে।”

অন্যদিকে যশোর সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছে এমন কোনো নির্দেশনা নেই যে নৈশ প্রহরীদের রাতে বিদ্যালয়ে থাকতে হবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাদের রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে পাহারা দেওয়ার কথা। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব। যদি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে, তাহলে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হুদারাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ সংক্রান্ত পরবর্তী প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *