কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ‘বিনা লাভের বাজার’ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে পণ্য পেয়ে খুশি তারা।
বিনা লাভের বাজার থেকে পণ্য কিনে মো. রওশন বলেন, “আমি নিজেও একজন মুদি দোকানদার। এখান থেকে এক হালি ডিম কিনলাম মাত্র ২৮ টাকায়। বাজারে এই ডিম কিনতে ৩৬ টাকা লাগে। এক হালি ডিমে প্রায় ৮ টাকা সাশ্রয় হলো।”
শান্তিনগর খলিলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম বলেন, “এমন বাজার আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। আমরা চাই এমন বাজার প্রতিদিন হোক। আমরা খুব খুশি।”
কুড়িগ্রাম শহরের খলিলগঞ্জ বাজারের পাশে জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে এই বাজারটি বসানো হয়েছে। ঘরের ভেতরে ১১ ফুট বাই ৩ ফুট একটি টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে ডিম, আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, শিম, শসা, বরবটি, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
দোকানটির ডান পাশে অল্প দূরেই রয়েছে পৌরবাজার এবং বাম পাশে খলিলগঞ্জ বাজার। তবুও কম দামে পণ্য পাওয়ার কারণে এই বিনা লাভের দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
কুড়িগ্রামের সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Fight Until Light (FUL)-এর উদ্যোগে গত ৯ মার্চ থেকে চালু হয়েছে এই বাজার। সংগঠনটির কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছাশ্রমে বিক্রেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাজারটি খোলা থাকে।
সোমবার বিকেলে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা ভিড় করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, ৯ মার্চ বিনা লাভের বাজারটির উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহা. হুমায়ুন কবির, কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল হালিম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঢাকার বাস্তবায়ন ও মনিটরিং বিভাগের উপপরিচালক ফারিহা নিশাত এবং কুড়িগ্রাম সদর যুব উন্নয়ন অফিসার গোলাম মোস্তফা সরকার।
কাঠমিস্ত্রি আলমগীর বলেন, “বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, সেখানে এই বিনা লাভের বাজার আমাদের জন্য সুখবর।”
কুড়িগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহা. হুমায়ুন কবির বলেন, “ফুল সংগঠন সবসময় ভালো কাজ করে। সংগঠনটির আব্দুল কাদেরকে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। আয়োজকদের ধন্যবাদ।”
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের জানান, “পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রোজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমাদের এই বিনা লাভের বাজারের আয়োজন। সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”