কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি: প্রশাসক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ

আব্দুল কাইয়ুম পাটোয়ারী

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) কার্যালয়ে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন প্রশাসক মো. শাহ আলমকে খুঁজে পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ উঠেছে নগরবাসীর মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা প্রত্যাশীরা।

সরেজমিনে কুসিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিনই নগর উন্নয়ন, ট্রেড লাইসেন্স, কর আদায়, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কাজে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় অনেক ফাইলই আটকে থাকছে। ফলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসক প্রায়ই ঢাকায় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনেক সময় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অফিসেও উপস্থিত থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নগরবাসী সাজ্জাদুল কবির বলেন, “সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এখানে যদি প্রধান কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের নীতিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অফিস করার নির্দেশনা থাকলেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কুসিক কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন মিয়াকে তার দপ্তরে পাওয়া যায়। তবে প্রশাসক কেন অফিসে উপস্থিত নেই—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না, উনি ঢাকায় আছেন।”

সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আমার জানা মতে প্রশাসক সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিস করেন। তবে তিনি ছুটি নিয়েছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “গত সপ্তাহে তার সঙ্গে দুই দিন বৈঠক করেছি। তিনি কেন নিয়মিত অফিস করছেন না—এ বিষয়ে আমি তার সঙ্গে কথা বলব।”

প্রশাসক মো. শাহ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি থাকলে নাগরিক সেবাগুলো আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই তাকে প্রায়ই ঢাকায় অবস্থান করতে হয় বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *