নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর একটি বাসায় চাকরিপ্রার্থী এক যুবককে ‘হানি ট্র্যাপে’ (প্রেমের ফাঁদ) ফেলে ৩০ ঘণ্টা আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত শায়লা নামের এক নারীসহ চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে ভিকটিম আজিজুল ইসলামকে উদ্ধার এবং মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া ৬৮,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধানে ঢাকা আসেন। তিনি যে বাসায় থাকতেন, তার পাশের রুমেই শায়লা নামের এক নারী বসবাস করতেন। শায়লা সুকৌশলে আজিজুলের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং গত সপ্তাহে তাকে ফাঁদে ফেলে একটি রুমে আটকে রাখেন।
নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: আটকের পর শায়লার মেয়ের জামাইসহ ছয়জন দুষ্কৃতকারী আজিজুলকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা একটি কক্ষে বন্দি করে রাখে। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে আজিজুলের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রটি। জীবন বাঁচাতে ভিকটিমের পরিবার অভিযুক্তদের বিকাশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে এবং দুষ্কৃতকারীরা আজিজুলকে দিয়ে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
উদ্ধার অভিযান: ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত আজিজুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারী শায়লাসহ চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৬৮,৫০০ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা: পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে আসছিল। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।