নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে: যশোরে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনকে শুধু নির্বাচন হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঠিক ও ভুল—দুই দিকই দেখতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচন দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের মধ্যকার একটি লড়াই। অতীতে দেশের মানুষ কখনও ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা আত্মবিশ্বাসী, ১২ তারিখে জনগণের সমর্থন বিএনপির পক্ষেই যাবে।”সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে অনুষ্ঠিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশ গঠনের কাজ শুরু করতে চায়— “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ শাসনের কথা বলছে। তার দাবি, নির্বাচনের আগে মা-বোনদের কাছে গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। “অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কীভাবে সৎ শাসন কায়েম হবে?”— এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, সেই সময় একটি দলের ভূমিকার কারণে দেশের অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন— এমন মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দলের শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং পরে তা অস্বীকার করে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের কথা বলেছেন। তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রতিক্রিয়া এড়াতে মিথ্যা বলা হচ্ছে।নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দল নাকি নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। তিনি ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে হযরত খাদিজা (রা.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-এর কর্মজীবনের উদাহরণ দেন এবং বলেন, নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে।তিনি অভিযোগ করেন, গত এক যুগে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে গুম, মামলা ও নির্যাতন হয়েছে। এবার জনগণ তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে বলেও মন্তব্য করেন।তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। ভোট গণনায় অযথা বিলম্বের অজুহাত দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অতীতে দেশের মানুষ ভোট দিয়েছে, তাই ভোট গণনায় কত সময় লাগে সে বিষয়ে জনগণের ধারণা রয়েছে— উল্লেখ করেন তিনি।নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতে নারীদের অবদানে দেশ গর্বিত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হবে।কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথাও বলেন তিনি। কৃষকদের সার-বীজ ন্যায্যমূল্যে দেওয়া এবং স্বল্প ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতিও দেন।ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য ‘সম্মানিত ভাতা’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন—সবক্ষেত্রেই সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়েছে। ভবিষ্যতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।যশোর অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফুল চাষ শিল্পকে রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর, খাল খনন, চিনিকল চালু এবং তরুণদের জন্য ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।সমাবেশে যশোরসহ সাত জেলার ২২ জন ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। উপস্থিত জনতা হাত তুলে সমর্থন জানান।সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *