নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সম্পূর্ণ ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে এই সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সব ফি বাতিল: ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও হয়রানি বন্ধ করতে আবেদন ফি, নবায়ন ফি এবং প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে ফ্রিল্যান্সাররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পাবেন।
- কারিগরি জনবল: আইডি ভেরিফিকেশনের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (ডিওআইসিটি) ২৯ জন প্রকৌশলী একটি রিসোর্স পুল হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন।
- নিবন্ধন ও ওয়েবসাইট: আজ থেকেই ফ্রিল্যান্সাররা freelancers.gov.bd ইউআরএল-এ গিয়ে সাইন আপ এবং আইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সাইটটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফলভাবে ভিএপিটি (VAPT) সম্পন্ন করা হয়েছে।
- ব্যাংকিং ও আর্থিক সুবিধা: আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হবে যাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুয়াল কাগজের পরিবর্তে এই ডিজিটাল আইডি গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা সহজে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং সরকারি প্রণোদনা পাবেন।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: খুব শীঘ্রই এপিআই (API) ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে। এছাড়া এই প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যা সরকারের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “অতীতের জালিয়াতি ও হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে আগের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এখন আইসিটি বিভাগের নিজস্ব প্রকৌশলীরাই এই সফটওয়্যারটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।”
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে। তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ জানান, আগে যারা টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তারা অভিযোগ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একজন ফ্রিল্যান্সারের আইডি কার্ডের আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন করার মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাক্য (BACCO) এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।