দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি: গাছ কাটলে বড় অঙ্কের জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বনভূমি দখল প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জারি করা হয়েছে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (২৪ পৌষ) পরিবেশ ও বন রক্ষার এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হয়। ১৯২৭ সালের পুরনো বন আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে সংরক্ষিত এলাকার বাইরের বৃক্ষ ও গণপরিসরের বনভূমি সুরক্ষায় এই নতুন আইন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাদেশের মূল দিকসমূহ:

১. বনভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা: প্রাকৃতিক বন কোনোভাবেই বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় প্রয়োজনে এবং বিকল্প কোনো পথ না থাকলে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিত ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া বনভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

২. বৃক্ষ কর্তনে নিষেধাজ্ঞা ও দণ্ড: এই আইনের অধীনে বৃক্ষের দুটি তালিকা থাকবে:

  • নিষিদ্ধ তালিকা: এই তালিকায় থাকা বৃক্ষ কোনোভাবেই কাটা যাবে না। কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা।
  • অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য: নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া এই তালিকার গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
  • অতিরিক্ত দণ্ড হিসেবে আদালত অপরাধীকে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের নির্দেশ দিতে পারবে।

৩. গাছে পেরেক মারলে জরিমানা: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য (যেমন- আগর চাষ) ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব বস্তু দিয়ে ক্ষতিসাধন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৪. ক্ষুদ্র বনভূমি বিনিময়: কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মালিকানাধীন ভূমির ভেতরে যদি এক একরের নিচে বিচ্ছিন্ন বনভূমি থাকে, তবে জনস্বার্থে সরকারের অনুমোদনক্রমে তা বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

৫. প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব: অধ্যাদেশটিতে বন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে করণীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।

কেন এই অধ্যাদেশ?

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯২৭ সালের পুরনো আইনে সংরক্ষিত বনের বাইরে অর্থাৎ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকা বৃক্ষ সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধিবিধান ছিল না। নতুন এই অধ্যাদেশ বনায়ন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সবুজায়ন রক্ষায় আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *