বঙ্গোপসাগরে ৬৫টি নতুন প্রজাতির অস্তিত্ব ও প্লাস্টিক দূষণ: গভীর সমুদ্রে গবেষণায় জোর প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম নিয়ে পরিচালিত বিশেষ জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

গবেষণার চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক ফলাফল:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী সভায় গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। গবেষণার মূল দিকগুলো হলো:

  • নতুন প্রজাতি: বঙ্গোপসাগরে গবেষণার মাধ্যমে ৬৫টি নতুন প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
  • পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা: মাত্রাতিরিক্ত মাছ আহরণের (Overfishing) ফলে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সামুদ্রিক ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
  • প্লাস্টিক দূষণ: গবেষণায় দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সমুদ্রের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
  • মাছ কমে যাওয়া: ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর ও স্বল্প গভীর উভয় অঞ্চলেই বড় বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

সোনাক্ষর ফিশিং (Sonar Fishing) ও বঙ্গোপসাগর রক্ষার সতর্কতা:

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে প্রায় ২৮০টি বড় ট্রলারের মধ্যে ৭০টি Sonar প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সতর্ক করে বলেন, “এই আগ্রাসী পদ্ধতির ফলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার দ্রুতই সোনাক্ষর ফিশিং নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “আমাদের স্থলভাগের সমপরিমাণ সম্পদ জলভাগেও রয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো জানি না সেখানে কী পরিমাণ সম্ভাবনা আছে। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন।” তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন জাহাজ:

বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি সমুদ্রের তলদেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহে দেশের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

এছাড়াও, গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি বিশেষ ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *