ন্যায়বিচারের বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা না হলে মানবাধিকার সুরক্ষা সম্ভব নয়: মোঃ শামছুল আলম

ডেস্ক রিপোর্ট:
মানবাধিকার মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মানবাধিকারকর্মী মোঃ শামছুল আলম। তিনি বলেন, মানুষের মর্যাদা রক্ষাই মানবাধিকারের মূল মূল্যবোধ, আর এই মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিসহ সার্বিক কাঠামোকে মানবাধিকারবান্ধব হতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের চেহারা, ধর্ম, ভাষা বা লিঙ্গ—এগুলোর ওপর ভিত্তি করে অধিকার ভাগ করা যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, সমতা, ন্যায়বিচার—এসবই মানবাধিকার বাস্তবায়নের মৌলিক উপাদান।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব তিনটি—অধিকার লঙ্ঘন থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, অধিকার নিশ্চিত করতে উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বজায় রাখা। এগুলো কার্যকরভাবে না হলে মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতা তৈরি হয়।

উন্নয়নশীল দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহুমাত্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী আচরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, বাল্যবিবাহ, অর্থনৈতিক বৈষম্য—এসবই মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করে। এছাড়া দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কর্মসংস্থানের অভাব, বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি ও নির্যাতন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাঠামোগত রূপ তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে সংকট তৈরি করে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব উল্লেখ করে মোঃ শামছুল আলম বলেন, এতে ব্যক্তি মর্যাদাহানির শিকার হয়, পরিবার অস্থিরতায় পড়ে, সমাজে অবিশ্বাস তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রে অস্থিরতা বাড়ে। টেকসই উন্নয়নও ব্যাহত হয়।

মানবাধিকার রক্ষায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি সহায়তা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের কার্যক্রম রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে সাহায্য করে এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

সবশেষে তিনি বলেন, “মানবাধিকার রক্ষা কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজে ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকারও রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *