নিজস্ব প্রতিবেদক:- সিলেট, ২১ নভেম্বর ২০২৫:
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’’ স্লোগানকে সামনে রেখে সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ১৯১তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরসমূহে সেবার মান বৃদ্ধি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি রোধ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরিই ছিল এ গণশুনানির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আগস্টের পরে দেশে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, সেই জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের কর্মকাণ্ড না মিলাতে পারলে জাতির সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা হবে। আপনারা সেই প্রতারণায় অংশ নেবেন না।”
তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন,
“কমিশনের ভেতরে যে দুর্নীতি আছে তাকে আমরা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেই না। যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত চালু করা হয়েছে।”
গণশুনানিতে আরও বক্তব্য দেন—
- দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম
- বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী
- ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান
- দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন
- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মু. মাসুদ রানা
- পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
গণশুনানিতে সেবা বঞ্চিত বা হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ পান। দুদক现场 তাৎক্ষণিকভাবে বহু অভিযোগের নিষ্পত্তি করে।
এদিন দুদকের তফসিলভুক্ত মোট ৭৩টি অভিযোগের শুনানি হয়। এর মধ্যে ৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়া, ২৮টি অভিযোগ নিষ্পত্তি, এবং বাকিগুলো প্রতিবেদন দাখিলের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য রাখা হয়।
গণশুনানিকে সফল করতে সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়—মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, বুথ স্থাপন, অভিযোগ বাক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। সেবাগ্রহীতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশার মানুষ, স্কাউট–বিএনসিসি সদস্য এবং গণমাধ্যম কর্মীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।