মো: ফারুক হোসেন
ঢাকা-১২ আসনে এখন ভরপুর উৎসবের আমেজ। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চলছে আনন্দ মিছিল, শুভেচ্ছা বিনিময়। কারণ, দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা সাইফুল আলম নিরব এবার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নামছেন।
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার মধ্য দিয়ে উঠে আসা নিরবের নাম নতুন নয়। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল ও যুবদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিদান
গত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭৬টি মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রায় ১৫ বছর তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ করেছেন, কিন্তু কখনো দল ত্যাগ করেননি বা অবস্থান বদলাননি। বিএনপি’র তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা তার এই ধৈর্য, ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি তার নাম চূড়ান্ত করেছেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। একাধিক ওয়ার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন, কেউ কেউ একে ‘ত্যাগের পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন।
জনপ্রিয়তার কারণ
ঢাকা-১২ আসনের সাধারণ ভোটাররাও নিরবের সঙ্গে পরিচিত। বহু বছর ধরে এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও তিনি সহকর্মী ও পরিবারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। দলে সংকট আসলে নিরব ভাই সামনে থাকেন। এবার আমরা চাই তার বিজয় দিয়ে সেই ত্যাগের প্রতিদান দিতে।”
রাজনীতিতে নতুন গতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাইফুল আলম নিরবের প্রার্থিতা বিএনপি’র জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু অভিজ্ঞ নন, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সততার কারণে তিনি নতুন নেতৃত্বের ধারক হতে পারেন বলে তারা মনে করেন।