সেলিম রেজা বাচ্চু
গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ দেশের মেহনতী মানুষের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে আজ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অথচ অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সময় এই মানুষগুলোকেই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করা হয়।
পাসপোর্ট পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় সীমাহীন হয়রানি। পাসপোর্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য প্রকাশ্য। ঘুষ ছাড়া সময়মতো পাসপোর্ট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে দালালমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক র্যাংকিং উন্নত করতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাসপোর্ট শুধু একটি ভ্রমণ নথি নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক।
পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট ও বহির্গমন কার্ডসহ বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করা জরুরি। প্রবাসীরা যদি বিদেশে মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান, তাহলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে।
বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা, আবাসন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিনামূল্যে পাসপোর্ট প্রদান করতে সরকার যে ভর্তুকি দেবে, তার কয়েকশ গুণ বেশি রেমিট্যান্স দেশে ফিরে আসবে—এটি বাস্তব সত্য। তাই বিষয়টিকে ব্যয় নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করুন।
বিনামূল্যে পাসপোর্ট দিন।
লেখক: সদস্য, বাংলাদেশ কংগ্রেস