নওগাঁ জেলা পূর্ব প্রতিনিধি: দেশের অন্যতম খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁয় ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাণীনগর উপজেলায় এই ভোগান্তি এখন চরমে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা সার মজুদ করে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন। রাণীনগরের মালশন গ্রামের কৃষক তানভীর ও উজ্জ্বল সরকার জানান, সরকারি দরে সার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকায় ডিএপি কিনতে হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষকদের আরও অভিযোগ, ডিলাররা তাদের নির্ধারিত এলাকায় সার বিক্রি না করে বেশি লাভের আশায় অন্য এলাকায় পাচার করছেন। আবাদপুকুরের কৃষক নুরুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসের যোগসাজশেই এই সিন্ডিকেট প্রতি মৌসুমে কৃষকের পকেট কাটছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিএপি ১৩০০ টাকা এবং টিএসপি ১৬০০ টাকার উপরে কিনতে হওয়ায় তারা কম লাভে বা বেশি দামে তা কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন। অথচ উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, সারের কোনো ঘাটতি নেই। এই দ্বিমুখী তথ্যে দিশেহারা সাধারণ কৃষক।