জিএম বাহার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল): বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (গৈলা হাসপাতাল) বর্তমানে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দালালদের দৌরাত্ম্য, নিম্নমানের খাবার এবং চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের ভেতরে ও গেটের সামনে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা সারাক্ষণ ওৎপেতে থাকে। গ্রাম থেকে আসা সরল-সহজ রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বা ফুসলিয়ে তারা বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এর বিনিময়ে ওইসব ক্লিনিক থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন বা পার্সেন্টেজ পায় দালাল চক্রটি। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ রোগীরা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিযোগ, তাদের দেওয়া খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব অভিযোগের কথা বারবার জানানো হলেও তারা অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিতর্কিত চিকিৎসক বখতিয়ার আল মামুনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতিবাচক দিক হিসেবে ডা. মশিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ‘নরমাল ডেলিভারি’র সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় ক্লিনিক মালিকদের সিজার বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। কিন্তু এই সফলতা সত্ত্বেও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও দালাল চক্রের দাপটে ম্লান হচ্ছে হাসপাতালের ভাবমূর্তি।
আগৈলঝাড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন যেন দ্রুত হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।